সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪

আজ-কাল-পরশু


ক্লাশ ফোর-এ পড়ার সময় প্রথম আরবী পড়ে পড়ে কোরআন খতম করেছিলাম, আবছা আবছা মনে পড়ে তখনো গ্রীস্মকাল ছিলো এবং রোযা ছিলো, নানাজান আমার জন্য গ্রামের হাট হতে গরম গরম জিলাপি এবং তরমুজ নিয়ে এসেছিলেন। মসজিদের ইমাম-সাহেব ইফতারির সময় বিশেষ দোয়া করলেন, যেন একজন ঈমানদার, বড়-মানুষ হতে পারি।

প্রায় ৩৫/৩৬ বছর পর বাংলা অর্থসহ পড়ে পড়ে কোরআন খতম করলাম। মাঝে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন সুরা পড়া হয়েছে, কিন্তু পুরোটা শেষ করা হয় নি; এরপর আমার ইচ্ছে আরবী দিয়ে কোরআন বুঝা। আখালিয়া ঘাটের বেশ কিছু দুস্থ পরিবারের কাছে বিভাগের সহকর্মীদের সহযোগিতায় কিছু ঈদ-সামগ্রী পৌছে দিলাম বিকেলে।

ফেরার সময় তরমুজ কিনলাম, পরে মনে হলো জিলাপি কিনলেও ভালো হতো! একদিকে কোরান খতম এবং অন্যদিকে দুস্থদের সহায়তা, আমার ডাবল আনন্দ সবার সাথে শেয়ার করার জন্য লেখার লোভ হলো, কেউ ভুল বুঝবেন না দয়া করে!

হে আল্লাহ, যারা আমাকে চেনে/জানে; আমিও যাদেরকে চিনি/জানি- আমাদের সবাইকে মাফ করে দাও!

০২.
এবারের ঈদটা অন্যরকম। চান-রাতে আতশবাজি পোড়ানো হবে না, মোড়ে মোড়ে আড্ডা হবে না, ঈদগায় কোলাকুলি হবে না, বাসায় মেহমান আসবে না, সেলামি দেয়া-নেয়া হবে না, নতুন জামা-জুতো পরে ঘুরোঘুরি হবে না।

তবুও চাঁদের পালকি চড়ে আসবে সবার ঘরে নীরব-কলরব। মজার মজার রান্না হবে, বাতাসে বাতাসে সুগন্ধ ছুটবে, ইনডোর গেম চলবে, চলবে ঘরে থাকার উৎসব!

০৩.
অতীতে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয়া, গোপনে ফেলে যাওয়া, বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া, একঘরে করে রাখা- এসব হয়েছে। যা হয়েছে তো হয়েছে- কিন্তু সামনের দিনগুলোতে যেন এমন না হয়। আমার-আপনার-আমাদের সময় যেন সহৃদয় হয়।

যারা অসুস্থ, বিশেষ করে যারা করোনাক্রান্ত তাদের প্রতি যেন মানবিক আচরণ করি আমরা। দোয়া করি, এ দুঃসময় যেন চলে যায়! ভালো মন থাকলে দূর হতেও ভালোবাসা যায়!

 

সুমন আখন্দ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়


অন্যান্য খবর