বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪

এবং তালজ্ঞান


তোতলাতে তোতলাতে সব তালগোল পাকিয়ে (জটিল অবস্থা সৃস্টি) এসেছ, এখন তাল সামলাও (পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা)! তাজুদ্দীর মতো তালপাতার সেপাই (রোগা ও দুর্বল ব্যক্তি) তুই-তোকারি করলো, তাল ঠুকল (সগর্ব উক্তি), তিলকে তাল বানালো (অতিরঞ্জিত করা), কোমড় ঢুলিয়ে ঢুলিয়ে তাল-বেতালের (উল্টাপাল্টা) কথা শুনাল, তোমার গায় হাত তুলল- আর তুমি কিনা মুখটা তোলা হাঁড়ি (গম্ভীর ভাব) করে ঢিমেতালে (আস্তে আস্তে) বাড়ি ফিরলে!

হায়রে, ইঁদুরকপাল আমার! আসলে বিয়ের আগেই বুঝা উচিত ছিলো তোমার মত তালকানা (মাত্রাজ্ঞানহীন) দিয়ে অন্তত সংসার চলে না। ছিঃ ছিঃ ছিঃ হাততালি দেবে লোকে, সারা তল্লাটে তোলপাড় হবে তামান্নার বাপের তালবোধ (বিচারশক্তি) নেই; নামেই তালপুকুর (গভীর জলরাশি) আসলে ঘটিও ডোবে না।

তুমি একটা তালচোঁচ (বাবুই পাখি)! ঘরে বসে তোলা দুধের সর, বাইরে গেলে তালমাখনা (জিরাসদৃশ মশলা)। তাজুদ্দীর মার খেয়ে এবার যদি তালকীন (শিক্ষা) হয়! ঠিক করেছে তাজুদ্দী, তুলার মতো ধুনে দিতো, একতাল (বড় দলা) কাদা নাকের উপর থেবড়ে দিত, তালবাখড়া (তালপাতার ডাঁট) দিয়ে মাথা ফাটাত, তাহলে তোমার তালিম হত।

কচি তাল (ফলবিশেষ) পেয়েছ আমাকে না, যা বুঝাবে তাই বুঝব! আগে তাল (ধারণা) ছিল না, তামান্নার মা’র কথা বাসি হলেই ফলে। তাল-তেঁতুলে কখনো ক্ষীর হয় না, তালমিছরির ছুরিকে (কুটিল ব্যক্তি) বিশ্বাস নেই। ঘুঘু দেখেছ ফাঁদ দেখোনি, তাজুদ্দীকে তাল (প্রশ্রয়) দিয়ে দিয়ে তালগাছে (উপরে অর্থে) তুলে এখন তালবাহানা (ঢিলেমি)।

তুলকালাম হবে বলে দিলাম, তেল ঢেলে সাততাল (মাপবিশেষ) ভিটেমাটি জ্বালিয়ে দেবো যদি এর বিহিত না করো। তাজুদ্দীর পিঠে যদি ভাদ্রের তালের মতো দু’ঘা বসাতে না পার, ওর তোতা মুখ যদি ভোতা করতে না পার তবে দরজায় তালা! ঘরে জায়গা হবে না, বুঝেছেন তোরাব সাহেব! চুলায় হাঁড়ি চড়বে না, তালকী (তালরসের পানীয়) খেয়ে খেয়ে রাস্তায় ঘুরতে হবে! আপনার সাধের তানা-না-না তালচর্চাও (রাগ সঙ্গীত) বন্ধ!

 

সুমন আখন্দ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়


অন্যান্য খবর