বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪

কবি


দশ লাইন ছন্দে মিলাতে পারলে কবি, পাঁচটা গান লিখতে পারলে গীতিকবি, দু’টো বই প্রকাশ করতে পারলেই নামের সামনে কবি পদবী পাকা হয়ে যায়। কবি বিশেষণটাকে আমরা ভীষণভাবে পঁচিয়ে ফেলেছি। জীবদ্দশাতেই শুনেছি কাকের সাথে কবির তুলনা; কুকুরের সাথে, পাগলের সাথে, ভন্ড-ফকির, ভেগাবন্ডের সাথেও তুলনা চলে।

কবি কল্পনা করলেই আমাদের মানসপটে ভেসে ওঠে মলিন মুখ, আলুথালু বেশ, উস্কুখুস্কু চুল, কাঁধে ঝোলা, পায়ে চটি স্যান্ডেল। অথচ পৃথিবীর ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা। কোন একটা সময়ের যিনি সবচেয়ে জ্ঞানী, দূরদর্শী, পন্ডিত, এবং বিচক্ষণ ব্যক্তি তাকেই রাজদরবারে কবি হিসেবে নিয়োগ করা হতো। আলোচনা দীর্ঘ হতে পারে বলে ওদিকে আর যাচ্ছি না।

পুরুষ/নারী যাই হোন, আমার মনে হয় কবি হবেন সবচেয়ে সচেতন পর্যবেক্ষক, নিষ্ঠাবান নিরীক্ষকও হতে হবে তাকে। তিনি তার সময়ের চেয়ে বেশি শৈল্পিক হবেন, রুচিশীল এবং নান্দনিক হবেন। যিনি মনে মনে সারাক্ষণ শব্দ গোছান, তাকেও গোছানো জীবন-যাপন করতে হয়। অনেকেই ভাবেন, কবি সংসারবিবাগী হবেন।

কেউ কেউ হতে পারেন কিন্তু আমার মনে হয়, কবিরা ভালো সংসারী হবেন। তিনি ঘর ঝাড়ু দিলে অন্য যে কারোর চেয়ে ভালো পরিস্কার হবে, কাপড় ধুলে ঝকঝক করবে বেশি, কবি ভালো জানেন স্পাউজকে কি করে ম্যানেজ করতে হয়, তিনি ভালো জানেন বাচ্চাদের কি করে হাসি-খুশি রাখতে হয়।

কবি শিক্ষক হতে পারেন, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, রাজনীতিবিদ, কৃষক, শ্রমিক, অথবা পেশার প্রয়োজনে যে কোন কিছু। তিনি যা-ই হন সবাই তাকে জানবে আদর্শিক, নীতিবান, কর্মঠ, সৎ, ও সময়ানুবর্তী মানুষ হিসেবে। কবি দাম্ভিক হবেন না ধার্মিক হবেন, অহংকারী হবেন না পরোপকারী হবেন, ঈর্ষাপ্রবন হবেন না আস্থাভাজন হবেন, সৃষ্টিপ্রবন হবেন।

কবি হবেন স্বাপ্নিক। বাস্তবের যে রুঢ়, কর্কশ, এবং বৈরী রূপ তা থেকে উত্তোরণের উপায় দেখাবেন তিনি মানুষদের। মানুষের জীবন মূলত দূরূহ ও কষ্টসাধ্য। জীবনের দূর্যোগও দূর্ভোগে যারা আশা জাগাতে পারেন, স্বপ্ন দেখাতে পারেন তারাই কবি।

 

লেখক : সুমন আখন্দ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়


অন্যান্য খবর