বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

আপন দৃষ্টি ৫৭

ক্ষমতাবিহীন আগামী আওয়ামী লীগ কেমন হবে? পর্ব-২

আব্দুল মালিক

  • সাংবাদিক ও কলাম লেখক
  • ১১:৫৩ পিএম, ৬ জুলাই ২০২১

প্রথম পর্ব পড়ে অনেকেই অনেক মন্তব্য করেছিলেন, এর মধ্যে একটি মন্তব্য হচ্ছে, খুব ভালই শুরু করেছেন; কিন্তু শেষটা করতে পারলেন না’। আমি কিন্তু শেষ করি নাই, তাই আজ মনে করিয়ে দিতে চাই ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের কিছুদিন পর কোন এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, বঙ্গবন্ধু বিহীন বাংলাদেশ কেমন চলছে? পাশে দাঁড়ানো এক নেতা বলেছিলেন, “মস্তাক ভাই ভালই চালাচ্ছেন’। এই নেতাও আজ আওয়ামী লীগের কর্ণধার।

এখন যেটা বলতে চাই, আমি বাংলাদেশকে ভালবাসি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কারণ মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি কিন্তু যুদ্ধ করি নাই। আমি যুদ্ধের ভয়াবহ হত্যা, ধর্ষণ, শোষণ, নির্যাতক, নিপীড়নের প্রত্যক্ষ সাক্ষী। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী দল। রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগের নিশ্চয় অনেক ক্ষেত্রে ত্রুটি বিচ্যুতি ও ব্যর্থতা ছিল এবং আছে। তবে নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে, দেশ ও জনগণের জন্য আওয়ামী লীগের যে অর্জন তা এই দলের অতীত ও বর্তমান সকল ত্রুটি বিচ্যুতি ও ব্যর্থতার তুলানায় অনেক অনেক বেশি।

অনেকেই হয়ত একমত হবেন না। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদী আওয়ামী লীগের ক্ষমতার মুল কারণ গণতন্ত্রের শক্তির কারণ বলে মনে করি। এক এক করে তিনটি সামরিক সরকার দেখেছে জনগণ। সেই সাথে দেখেছে জেনারেল জিয়া ও জেনারেল এরশাদের অগণতান্ত্রিক সামরিক শাসন, সীমাহীন দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসন, বিচার বিহীন হত্যাজজ্ঞ, প্রকাশ্যে দিবালোকে সারা বাংলাদেশে বোমা হামলা এবং জামাত শিবিরের জঙ্গি হামলা। তাই বর্তমান সরকারের এত দুর্নীতির পরও মানুষ গণতান্ত্রিক দল আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় থাকা মানসিক স্বস্তিবোধ মনে করে।

ক্ষমতাবিহীন আগামী আওয়ামী লীগ কেবন হবে প্রশ্নের আগে বলতে চাই, ক্ষ্মতাবিহীন আগামী আওয়ামী লীগের অবস্থা যদি ১৯৭৫ এর চেয়ে আর বেশী খারাপ হয় এর জন্য আমি চিন্তিত নই। আমি চিন্তিত বর্তমান আওয়ামী সরকারের বিরোধী দল হিসাবে কোন গণতান্ত্রিক দলের উত্থান বা জন্ম যদি না হয়। তবে দুর্নীতি বিহীন ও সুস্থ্য রাজনীতির ভবিষৎ আশা করা অত্যান্ত কঠিন হবে। ২১ বৎসরের দুই সামরিক সরকারের দুঃশাসনের কারণে, গণতান্ত্রিক দল আওয়ামী লীগের যে দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষমতার মুল কারণ, তা এখন পরিষ্কার হয়ে গেছে।

দীর্ঘ মেয়াদী আওয়ামী সরকারের ভাল দিকটা হচ্ছে, মানুষ কিছুটা হলেও বঙ্গবন্ধুর বাকশালের গণতন্ত্রের স্বাদ পাচ্ছে। অর্থাৎ চিৎকার করে কথা বলার বাক স্বাধীনতা পেয়েছে। যে স্বাদটি বিগত দুই সামরিক সরকার হরণ করেছিল। যেখানে গণতন্ত্রের অক্সিজেন হচ্ছে বাকশাল ও ধর্ম নিরপেক্ষতা, সেখানে গণতন্ত্রের অপব্যাখ্যা করে বাকশাল অর্থ একদলীয় শাসন এবং ধর্ম নিরপেক্ষ অর্থকে ধর্ম হীনতা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করে জাতিকে সাম্প্রদায়িকতার বিষ পানে দুষিত করা হয়েছিল। আজ মানুষ এই অপব্যাখ্যা থেকে অনেকটা দুরে চলে এসেছে।

দীর্ঘ মেয়াদী আওয়ামী সরকারের খারাপ দিকটা হচ্ছে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি। এই দুইটি ক্ষেত্রে আওয়ামী সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতা রয়েছে যেটা দূর না হলে ক্ষ্মতাবিহিন আওয়ামিলীগ এর ভবিষৎ কত কষ্টের চিন্তা করাও কঠিন হবে।


অন্যান্য খবর

বার্তাবাহক সর্বশেষ

উপরে