বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪

যেভাবে তৈরি হল বাংলাদেশের বাইরে প্রথম শহীদ মিনার


 

শহীদ দিবস ৯২

১৯৯২খ্রি  ৪ঠা জানুয়ারী রোজ শনিবার দুপুর ২টায় ওল্ডহাম বাংলাদেশ কালচারেল সেন্টারে OBYA এর কার্যকরী পরিষদের সভা অনুষ্টিত হয়। উক্ত সভায় প্রথম বারের মত আমরা বিজয় দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। অনুষ্টানের বিভিন্ন দিগ নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়। সেই সাথে এই প্রথম বারের মত ওল্ডহামে  মহান শহীদ দিবস ২১শে ফেব্রুয়ারী পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। এই অনুষ্টান আয়োজনের দায়িত্বে আমি এবং আমার সাথে সাইফুল আলম ও মোজাহিদকে দেওয়া হয়। এছাড়াও স্বাধীনতা দিবস পালন, বাংলা ক্লাস, বাংলা রেডিও অনুষ্টান, ওয়েষ্টউড ফোরাম ও ফুটবল টুর্ণামেন্ট সহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। ১লা ফেব্রুয়ারী ১৯৯২খৃঃ OBYA এর কার্যকরী পরিষদের সভা অনুষ্টিত হয়। এতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ২১শে ফেব্রুয়ারী রবিবার না থাকায় এক সপ্তাহ পিছিয়ে ১লা মার্চ শহীদ দিবস পালন করা হবে। প্রোগ্রামের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত, বক্তা ওয়াহিদুর রাহমান, সাদরুল ও লুসন।

অতিথি আনুয়ারুল ইসলাম, শেরেবাংলা স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে কবিতা আবৃতি, নাটক ও গান। বক্তা আলহাজ মবশ্বীর খাঁন, কম্পিউটার সার্টিফিকেট প্রজেকশন, প্রধান অতিথি বাংলাদেশের এসিস্টেন্ট হাইকমিশনার জনাব আহমেদ রহিম। পরবর্তীতে আমি (আব্দুল মালিক) আব্দুল করিম, মোজাহিদ, সাইফুল ও ওয়াহিদুর রাহমান মিলে আবার নতুন ভাবে অনুষ্টান সাজালাম। অনুষ্টানের সভাপতিত্ব করবেন চেয়ারম্যান আব্দুল করিম, প্রধান অতিথি বাংলাদেশের এসিস্টেন্ট হাইকমিশনার জনাব আহমেদ রহিম, বিশেষ অতিথি ডঃ আনোয়ারুল ইসলাম (শিক্ষক মানচেষ্টার পলিটিকনিক) প্রধান বক্তা ওল্ডহাম বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি আলহাজ মবশ্বির খাঁন ও ওল্ডহাম বাংলাদেশ মহিলা এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শরিফা বেগম। অনুষ্টান পরিচলনা ও ধারা বিবরণীতে আমি (আব্দুল মালিক), কোরআন তেলাওয়াত, জাতীয় সংগীত, পুষ্পস্তবক অর্পণ, এক মিনিট নিরবতা, বাংলা স্কুলের ছেলেমেয়েদের নিয়ে কবিতা আবৃতি, গান, নাটক ও OBYA এর সদস্যদের সৌজন্যে বাংলা নাটক।

অনুষ্টানের একদিন আগথেকেই শহীদ মিনারের কাজ শুরু করি, এতে সাইফুল আলমকে নিয়ে প্রথমবারের মত বাংলাদেশের বাহিরে কাঠদিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করি এবং সর্ব প্রথম আমি (আব্দুল মালিক)  নিজে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে সকলকে দেখালাম কিভাবে শহীদ মিনারে ফুল দিতে হয়। শেরেবাংলা স্কুলের ছেলেমেয়েদেরকে সপ্তাহে তিন দিন করে কবিতা আবৃতি, গান ও নাটকের প্র্যাকটিস করতাম। এ ছাড়াও আর দুই দিন ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সদস্যদের নিয়ে নাটকের রিয়ারসেল করতাম। নাটকে যারা অংশ গ্রহন করেছিলেন, সাইফুল আলম, ফারুক মিয়া, মোজাহিদ খাঁন, ওয়াহিদুর রাহমান, আলমগির, নুরুল আলী, তজমুল আলী, নজরুল ও শিল্পি নুরুজ্জামান। ঐ দিন অনুষ্টান দেখে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার জনাব আহমেদ রহিম বল্লেন, বিদেশের মাটিতে এত সুন্দর অনুষ্টান এই প্রথম আমি উপভোগ করলাম। বিশেষ করে ছেলেমেয়েদের কবিতা আবৃত্তি, গান ও নাটকটি ছিল উপভোগ করার মত। তিনি বাংলা স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য বাংলাদেশ থেকে বই আনার প্রতিশ্রুতি দিলেন।

শহীদ দিবস ৯৩

৬ই ফেব্রুয়ারী ১৯৯৩খ্রি OBYA এর কার্যকরী পরিষদের সভায় ২১শে ফেব্রুয়ারী শহীদ দিবসের প্রোগ্রাম সাজানো হয়। তবে এবার তারিখ পরিবর্তনের কোন প্রয়োজন ছিল না কারণ ২১ তারিখ রবিবার ছিল। এতে আমার সাথে সাইফুল আলম, নুরুল আলী ও মোজাহিদকে প্রোগ্রামের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিভাবে কি কি হবে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হল। এবার ও শেরেবাংলা স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে কবিতা আবৃত্তি, গান ও নাটক পরিবেশন হবে। গত বৎসরের নির্মিত কাঠের তৈরি শহীদ মিনার বাংলাদেশ ক্যালচারেল সেন্টারের ষ্টোর রুমে রেখেছিলাম। আমাদের ধারণা ছিল ঐ শহীদ মিনার দিয়ে এবারও শহিদ দিবস পালন করতে পারব কিন্তু স্কুলের ছেলেমেয়েরা এটাকে এমন ভাবে ভেংগে দিয়েছিল যে আর মেরামত করা সম্ভব ছিল না। তাই নতুন করে আরেকটা তৈরি করতে গিয়ে আলোচনায় চলে আসে স্থায়ী ভাবে শহীদ মিনার তৈরির কথা। আমি বল্লাম সেন্টারের বাহিরে যদি বাংলাদেশের মত স্থায়ী ভাবে আমরা শহীদ মিনার তৈরি করতে পারি, তাহলে প্রতি বৎসর আর এই ভাবে কাঠ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরির প্রয়োজন হবে না।

আমরা সেন্টারের বাহিরে শহীদ মিনার পুষ্পস্তবক অর্পণ করে সেন্টারের ভীতরে অনুষ্টান করতে পারি। সাইফুল আলম আমার সাথে একমত হলেন কিন্তু এই অল্প সময়ে কি সম্ভব? শহীদ মিনার নিয়ে আমি আমার পরিকল্পনার কথা বল্লাম। আব্দুল করিম বল্লেন, সেন্টারের বাহিরে সম্ভব নয় কারণ সেন্টার ইতিমধ্যে বড় করার পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। তবে তিনি বল্লেন, করতে পারি মেইন রোডের উপারে যে খালি জায়গা রয়েছে সেখানে, তবে জানতে হবে ঐ জায়গা কাউন্সিলের না ব্যেক্তি মালিকানা। তবে এটা লং প্রসেস সুতারাং আমরা আগের মতই কাঠ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করতে হবে। আমরা আমাদের পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী অনুষ্টানের কাজে লেগে গেলাম। আমরা চারজন প্রোগ্রাম সাজালাম, অনুষ্টান পরিচালনা ও ধারাবিবরণীতে আমি (আব্দুল মালিক)। শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত, জাতীয় সঙ্গীত, পুষ্পস্তবক অর্পণ, এক মিনিট নিরবতা পালন, বাংলা স্কুলের ছেলেমেয়েদের নিয়ে গান, কবিতা আবৃত্তি ও নাটক।

এ ছাড়াও ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সদস্যদের দিয়ে একটি নাটক করার সিদ্ধান্ত নিলাম। অনুষ্টানের আগের দিন থেকেই শহীদ মিনার তৈরির কাজ শুরু করি। এবার প্রধান অতিথী হাসান চৌধুরী মানচেষ্টার, বিশেষ অতিথী আব্দুল মান্নান। অনুষ্টানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল নাটক “রাষ্টভাষা বাংলা চাই”। নাটকের পরিচালনা, ধারা বিবরণী সহ সার্বিক তত্বাবধানে ছিলাম আমি (আব্দুল মালিক)। যারা অভিনয় করেছিলেন তারা হলেন, সাইফুল আলম, সাইস্তা মিয়া, আনর মিয়া, তজমুল আলী, ফারুক মিয়া, ছমরু মিয়া, ও মোজাহিদ খাঁন। অনুষ্টানের আর আকর্ষণ ছিল, শেরে বাংলা স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের কৌতুক অভিনয়। অনুষ্টানের শেষে গান পরিবেশন করেন, বাংলাদেশ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রথম শিল্পি মান্না হক ও কৃষ্ণণা রায়। মান্না হক স্কুলের ছেলেদের কৌতুক অভিনয় দেখে বলেন, লন্ডনে এই প্রথম তিনি ছোট ছোট বাচ্ছাদের নাটক দেখেছেন এবং তাদের প্রসংশা করলেন। এতে আর সংগীত পরিবেশন করেন ওল্ডহাম কালচারেল গ্রোপের কবি ইলিয়াছ আলী, নুরুজ্জামান, লেবু মিয়া ও নুর মিয়া। যথা যোগ্য মর্যাদায় শহীদ দিবস পালন করা হল।

৭ই মে ১৯৯৪খ্রি শনিবার OBYA এর কার্যকরী পরিষদের সভা ওল্ডহাম বাংলাদেশ কালচারেল সেন্টারে অনুষ্টিত হয়। এই সভায় আব্দুল করিম জানালেন যে, মেইন রোডের খালি জায়গা কোন ব্যাক্তি মালিকানা নয়, এটা কাউন্সিলের জায়গা সুতারাং শহীদ মিনারের জন্য এই জায়গা আমরা কাউন্সিল থেকে আনতে পারি। এতে আলোচনা হয় যে, কাউন্সিলারদের সহযোগিতা পেলে এই জায়গা কাউন্সিল থেকে আনার অনুমুদন অত্যান্ত সহজ হবে। আব্দুল করিম এবং ওয়াহিদুর রাহমান এর দায়িত্ব নিলেন।

৬ই আগষ্ট ১৯৯৪খ্রি OBYA এর কার্যকরী পরিষদের সভায় আলোচনা হয় যে, শহীদ মিনারের জায়গার জন্য আবেদন করা হয়েছে।

৫ই নভেম্বর ১৯৯৪খ্রি OBYA এর কার্যকরী পরিষদের সভা ওল্ডহাম বাংলাদেশ কালচারেল সেন্টারে অনুষ্টিত হয়। উক্ত সভায় আমি (আব্দুল মালিক) উপস্থিত ছিলাম না, তবে বিজয় দিবস কিভাবে পালিত হবে আলোচনা করা হয়। পরের সপ্তাহে মুহিবুর রাহমান, ওয়াহিদুর রাহমান ও আব্দুল করিম সাথে আলোচনা হয় ইয়ুথ এসোসিয়েশনের কো-ওর্ডিনেটর পদে যাতে আমি (আব্দুল মালিক) চাকরির জন্য আবেদন করি। কাউন্সিলার আব্দুল জব্বার ও অন্যান্য কাউন্সিলারদের সহযোগিতায় শহীদ মিনারের জন্য খালি জায়গাটা বরাদ্ধ করা হয়েগেছে সুতারাং আমরা বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মত শহীদ মিনার তৈরি করতে পারব। ওয়াহিদুর রাহমান বল্লেন নিক এন্ড্রোর সাথে আলাপ করে দেখা যেতে পারে কোন অনুদান পাওয়া যায় কি না।

১৪ই জানুয়ারী ১৯৯৫খ্রি OBYA এর কার্যকরী পরিষদের সভা অনুষ্টিত হয়। এতে রমজান মাস থাকার কারণে শহীদ দিবস পালন করা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং OBYA এর জন্য একটা অফিস নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

২৬শে আগষ্ট ১৯৯৫খ্রি OBYA এর কার্যকরী পরিষদের সভা অনুষ্টিত হয়।  উক্ত সভায় ওয়াহিদুর রাহমান জানালেন নিক এন্ড্রো আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছে শহীদ মিনারের জন্য গ্রান্ড পাওয়া সম্ভব তবে এর আগে শহীদ মিনারের নকশা ডিজাইন করে একটা কোটেশন আনতে হবে। সাইফুল আলম আমাকে অনুরুধ করলেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের একটি ফটো সংগ্রহ করার জন্য। আমি প্রথমে আমার ঘরে খুজ করে পেলাম সাদাকাল একটি ছবি, যে ছবি দেখে  ৯২/৯৩তে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করতে  সাইফুল আলম আমাকে সহযোগিতা করে ছিলেন।  সাইফুল আলম বল্লেন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের একটি রংগিন ছবি প্রয়োজন। পরের দিন ম্যানচেস্টার হাইকমিশনার অফিসে ফোন করে আলাপ হল, ম্যানচেস্টারের সহকারী হাইকমিশনার জনাব সাইফুল আমিন খাঁন সাহেবের সাথে। তিনি শুনে খুশী হলেন এবং আমাকে বল্লেন, যে কোন প্রকারে হোক একটা ফটো সংগ্রহ করে আমাকে ফোন করবেন।

১৪ই অক্টোবর ১৯৯৫খ্রি OBYA এর সভা, কাউন্সিলের এস আর বি প্রজেক্ট থেকে একজন প্রজেক্ট কো- অর্ডিনেটর নিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। এই সভায় ১শত হাজার পাউন্ডের একটি গ্রান্ট একাউন্টে জমা ও ভবিষ্যৎ কর্মসুচী নিয়ে আলোচনা হয়। অক্টোবরের শেষের দিগে ম্যানচেস্টারের সাইফুল আমিন খাঁন আমাকে ফটো সংগ্রহ করার জন্য ফোন করলেন। আমি কাজের ব্যাস্ততা থাকায়  সাইফুল আলম ও মুহিবুর রাহমানকে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ফটো সংগ্রহ করতে বল্লাম। ঐ ফটু দিয়ে আমরা শহীদ মিনারের মডেল তৈরি করি। আব্দুল করিম এই মডেল দিয়ে জে আর সি কন্সট্রাকশন থেকে শহীদ মিনারে কত ব্যয় হবে একটি কুটেশন আনলেন। সেই অনুযায়ী এস আর বিতে আবেদন করা হয়। নভেম্বরের শেষের দিগে আমরা এস আর বি থেকে ২৮ হাজার পাউন্ডের অনুদান পেয়ে গেলাম।  জানুয়ারীর দ্বিতীয় সপ্তাহে শহীদ মিনারের মডেলকে প্রদর্শনের জন্য কাইন্সিলে নিয়ে রাখা হয়।

২০শে জানুয়ারী ১৯৯৬খ্রি OBYA এর সভায় সকলের সম্মতিক্রমেই লন্ডনের জে আর এন্ড সি কন্সট্রাকশনকে শহীদ মিনারের কাজ দেওয়া হল।

১৯৯৬খ্রি মার্চ মাসে আমি (আব্দুল মালিক) প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটরের চাকরি শুরু করি। সকাল ১০ ঘটিকা অফিসে বসে সামার ফেস্টিভেলের (ওল্ডহাম মেলা) ষ্টল সংগ্রহের কাজে ব্যাস্ত টিক এই সময় আব্দুল করিম আমার অফিসে আসলেন এবং বল্লেন, কন্ট্রাক্টার এসেছে আগামী সপ্তাহ থেকে শহীদ মিনারের কাজ শুরু হবে। আমি ও তাদের সাথে গেলাম এবং তাদেরকে শহীদ মিনারের জায়গা দেখানো হল। পরের সপ্তাহে কাজ শুরু হল।

প্রথমে তারা বেইসমেন্টের কাজ শুরু করে এবং পরের সপ্তাহে শহীদ মিনারের বডি নিয়ে আসে। বডি যেদিন নিয়ে আসল সেদিন একজন আমাকে বল্লেন, কারেন্টের ব্যাবস্তা করে দিতে হবে। পাশেই ময়না মিয়ার ঘর আমার অত্যান্ত পরিচিত ছিলেন, অনেকেই ওনাকে লন্ডনী বলে ডাকতেন। আমি উনাকে অনুরুধ করলাম ইলেক্ট্রিক লাইন উনার ঘর থেকে দেওয়ার জন্য, উনি রসিকতা করে বল্লেন, ইলেক্ট্রিক বিল যদি পে করেন তাহলে দিতে পারি, আমিও উনাকে বল্লাম, বিলটা যখন আসবে আমার অফিসে পাটিয়ে দিবেন। তার পর উনার ঘর থেকে লাইন নিয়ে ওরা কাজ শুরু করল। পরের সপ্তাহে আব্দুল করিম আমার অফিসে আসলেন এবং বল্লেন সামনের পিলার দুইটায় কি কি বর্ণমালা দেওয়া যায়। আমি অফিসে এসে এফোর কাগজে একটা করে প্রায় ২০টি বর্ণমালা প্রিন্ট করে দিলাম। উনি এগুলো নিয়ে সাইনবোর্ডের দোকানে পাটিয়ে দিলেন। এর কিছুদিন পর একজন এসে বর্ণমালা গুলা লাগিয়ে গেল।

এপ্রিলের প্রথম দিগে সর্বপ্রথম শহীদ মিনারে পুষ্পস্তক অর্পণ করেন, আওয়ামীলীগের চারজন সংসদ সদস্য জনাব দেওয়ান ফরিদ গাজী এম পি, জনাব মুহিবুর রাহমান মানিক এম পি, জনাব জেবুন্নেছা হক এম পি, সুলতান মনসুর এম পি  এবং যুক্ত্ররাজ্য আওয়ামীলীগের সভাপতি জনাব আতাউর রাহমান খাঁন। পরবর্তীতে শহীদ মিনার উদ্ভোধন নিয়ে শুরু হয় রাজনৈ্তিক প্রতিযোগিতা। এক গুস্টির লোক নিজেদের জাহির করার জন্য লুকিয়ে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করে এবং বাংলাদেশের একজন মন্ত্রীকে আনার চেষ্টায় ব্যার্থ হয়ে পরে নিজেরাই  ৫ই অক্টোবর ১৯৯৭খৃঃ এর উদ্ভোধন করেন।

 

সাংবাদিক, কলামিস্ট


অন্যান্য খবর