সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪

সুরমা ন্যাচারাল পার্ক আলোর মুখ দেখেনি ১৬ বছরেও


দীর্ঘ দেড় যুগেও চালু হয়নি সিলেটের দক্ষিণ সুরমার আলমপুরস্থ ‘সুরমা ন্যাচারাল পার্ক’। তবে সিলেট সিটি কর্পোরেশন বলছে, ২০০৪ সালে শুরু হওয়া এ পার্কের কাজ শেষ হয়েছে। আর এটি উদ্বোধনের দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি।

সিলেটের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে পার্কটি চালু না করতে পারা অবশ্যই কর্তৃপক্ষের জন্য ব্যর্থতা। সেজন্য তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হোক। কারণ দীর্ঘদিন পার্কের যন্ত্রাংশ ফেলে রাখায় নষ্ট হয়েছে। আবার কিছু যন্ত্রাংশ বিকলও হয়েছে। সব মিলিয়ে এসব কাজের জন্য যাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাদেরকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনা গেলে পরবর্তীতে এর সুফল মিলবে। তবে আমরা সিলেটবাসী আসা করবো খুব শীঘ্রই যেন পার্কটি চালু করা হয়।’

এমনিতেই ইট-পাথরের নগরে শান্তির নিশ্বাস ফেলা ভার। জঞ্জালে ভরা নগরীতে হাঁটতে হাঁটতে সবাই যখন ক্লান্ত হয়, তখন শেষ বিকেলে ইট-পাথরের নগরীতে শান্তির জায়গার খুঁজে বেড়ান। কিন্তু নগরীর কোথাও সবুজের সমোরহ আর বিনোদনের জায়গা না পেয়ে হতাশ হয়ে ঘরে ফেরেন সিলেট নগরবাসী। অথচ পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত সিলেট। সিলেটে বিভিন্ন পর্যটন স্পট থাকলে নগরীর ভেতরে ভালো মানের পার্ক নেই। আর যেগুলো আছে সেগুলোও রক্ষণাবেক্ষণ আর নতুনত্বের অভাবে তার সৌন্দর্য হারিয়েছে বহু আগেই।

তবে নগরবাসীর বিনোদনের চাহিদার কথা চিন্তা করে ২০০৪ সালে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার আলমপুরে একটি পার্ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সুরমা নদীর তীর ঘেষা ৩ দশমিক ৭৭ একর জমির উপর ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্কটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান।

নিজস্ব অর্থায়নে কাজ শুরুর পর সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, মাটি ভরাটসহ গাছের চারা লাগানো হয়। পার্কটি সুরমার তীর ঘেঁষা হওয়াতে রাইড বসানোসহ নদীর সাথে নান্দনিক সিঁড়ি করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়। কাজ শুরুর তিন বছর পর অর্থ্যাৎ ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দিলে প্রকল্পের ১২ লাখ টাকা ফেরত চলে যায়।

কাজের শুরুর সময় ‘এম সাইফুর রহমান’ নামের পার্কের কাজ শুরু হলে নাম বদলে ‘সিলেট ন্যাচারাল পার্ক’ নামেই পার্কটির কাজ চলছে। নাম বদলের পরই ‘সুরমা ন্যাচারাল পার্ক’ এর নামে ৭ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় চীনা একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে পার্কে রাইড বসানো হয়েছে।

এছাড়া বসানো হয়েছে ‘মনো রেল’। এ ‘মনো রেল’ দর্শনার্থীদের তাক লাগিয়ে দেবে। এর আগে সিলেটে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন পার্ক থাকলেও এই পার্কে সর্বপ্রথম ‘মনো রেল’ সংযোগ করা হয়েছে। মনো রেলে মাটি থেকে ১৫ ফুট উপর দিয়ে এক হাজার ৩৬১ ফুট দূরত্ব অতিক্রম করা যাবে। এটি থাকবে পার্কের চারপাশ জুড়ে।

এছাড়া রয়েছে আকর্ষনীয় ম্যাজিক প্যারাসুট। ম্যাজিক প্যারাসুটে একসঙ্গে ১৮ জন ৭০ ফুট উঁচুতে উঠানামা করতে পারবেন। নদী, প্রকৃতি আর পার্কের নানা বৈচিত্র্য দর্শনার্থীদের তাক লাগিয়ে দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

দর্শনার্থীদের জন্য আরো রয়েছে পাইরেটশিপ, টুইস্টার, বাম্পার কার, ফ্রুট ফ্লাইং চেয়ার, ক্যারসেল, জাম্পিং ফ্রগ ও ভিজিটিং ট্রেন। ভিজিটিং ট্রেন দিয়ে একসাথে ২৬ জনকে নিয়ে ৪২০ ফুট ঘোরা যাবে। এসব রাইডের সাথে আরো কিছু রাইড থাকবে। যা সিলেটের অন্যান্য পার্ক থেকে এই পার্কটিকে এগিয়ে রাখবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বলা হচ্ছে পার্কটি দ্রুত উদ্বোধন করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে তা আর হয়ে উঠে না, তবে আমরা আশা করবো এবার পার্কটি চালু হবে। আর পার্কটি এতো বছরেও চালু করতে না পারা অবশ্যই সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ব্যর্থতা। সেজন্য তাদেরকে জবাবদিহীতার মধ্যে আনা প্রয়োজন। কারণ এই পার্ক নির্মাণের টাকা জনগণের টাকা। জনগণের টাকা অপচয় করার অধিকার কারো নেই। দীর্ঘ দেড় যুগ থেকে পার্কটি চালু না করায় পার্কের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিকল হতে পারে। সেই জন্য তাদেরকে অবশ্যই জবাবদিহিতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী বিধায়ক রায় চৌধুরী বলেন, এ চালু করার বিষয় নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে পার্কটি উদ্বোধন করা যাচ্ছে না।

অন্যান্য খবর